এই হোস্টেলে বিভিন্ন সরকারী, আধা-সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত বিধিবদ্ধ সংস্থা ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মরত মহিলাগণ যাদের ঢাকায় বসবাসের ব্যবস্থা নেই তারা সাময়িকভাবে ভর্তির জন্য প্রার্থী হতে পারবেন।
ক) তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
খ) তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হতে হবে।
ভর্তির আবেদন:
ক) সংরক্ষিত আসন অনুযায়ী ভর্তির আবেদন পত্র বোর্ডারদের মাঝে প্রদান করতে হবে। নিয়মাবলী অনুযায়ী নির্ধারিত ফরম পূরণ করে তা কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করতে হবে।
খ) কর্মস্থলের নিয়োগ পত্রের সত্যায়িত কপি হোস্টেল কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রদান করে ভর্তির আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে। আবেদন ফরমের নমুনা পরিশিষ্ট-'ক'।
নির্বাচন:
ক) বোর্ডারদের সংখ্যা যদি মাত্রাতিরিক্ত হয় তাহলে প্রাথমিক পর্যায়ে হোস্টেল তত্ত্বাবধায়ক তা যাচাই-বাছাই করতে হবে এবং সিট বরাদ্দ কমিটির কাছে আবেদনপত্রগুলো পেশ করতে হবে। সিট বরাদ্দ কমিটি তা পর্যবেক্ষণ করার পর সংরক্ষিত আসন অনুযায়ী ভর্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
সিট বরাদ্দের মেয়াদ:
ক) হোস্টেলের সিট ১ বৎসরের জন্য বরাদ্দ দেয়া হবে। বোর্ডারগণের সন্তোষজনক আচরণসহ বসবাস সাপেক্ষে পরবর্তী বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর যথানিয়মে মেয়াদ ১ বছরের জন্য বৃদ্ধি করা হবে যা সর্বোচ্চ মোট ৪ বছর পর্যন্ত, তবে প্রয়োজনের নিরিখে যথাযথ প্রয়োজন যাচাইপূর্বক এবং বোর্ডারদের সন্তোষজনক আচার-আচরণসহ বসবাস সাপেক্ষে কমিটির সুপারিশক্রমে সর্বোচ্চ ১ (এক) বৎসর মেয়াদ বর্ধিত করা যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে না।
খ) হোস্টেলে বসবাসকারী বোর্ডার অর্থাৎ সাময়িক বসবাসকারী হিসেবে গণ্য হবে, নিবাসী হিসেবে নয়।
গ) ১৮ বৎসরের নীচে এবং ৫৭ বৎসরের উর্ধ্বে কোন কর্মজীবী মহিলা এই হোস্টেলের বোর্ডার হতে পারবেন না।
হোস্টেলে বসবাসের শর্তসমূহ নিম্নরূপ:
ক) প্রতিমাসের ০১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে চলতি মাসের সিটভাড়া পরিশোধ করতে হবে।
খ) বরাদ্দকৃত সিট/কক্ষে বোর্ডার ব্যতীত অন্য কেউ অবস্থান করতে পারবেন না।
গ) বোর্ডারদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত রুম ব্যতীত অন্য কোনো রুমে অবস্থান করা যাবে না।
ঘ) বরাদ্দকৃত হোস্টেল কক্ষে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে টিভি, ডিশ লাইন, ইস্ত্রি, হিটার, কেরোসিন চুলা বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাবে না।
ঙ) বোর্ডারগণকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (সকাল ৭.০০ টা থেকে রাত ১০.০০ টা পর্যন্ত) হোস্টেল হতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বাহির এবং প্রবেশ করতে হবে। সাময়িক সমস্যা থাকলে বা হোস্টেলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রবেশ/অবস্থান করতে না পারলে অবশ্যই কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।
চ) কোনো বোর্ডার কর্তৃক স্বেচ্ছায় সিট ছেড়ে দিতে চাইলে কমপক্ষে ১ (এক) মাস পূর্বে লিখিতভাবে জানাতে হবে। অন্যথায় ১ (এক) মাসের সিটভাড়া প্রদান করতে হবে।
ছ) বোর্ডারগণের জন্য নির্ধারিত আসবাবপত্র ছাড়াও হোস্টেলের যেকোনো সম্পত্তি বোর্ডারগণের দ্বারা নষ্ট হলে তার ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।
জ) হোস্টেলের সিট বরাদ্দ বাতিল হলে (বোর্ডারের স্বেচ্ছায়/কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে) হোস্টেল ত্যাগের পূর্বে আবশ্যিকভাবে বোর্ডার কর্তৃক হোস্টেলের যাবতীয় দেনা-পাওনা পরিশোধ করতে হবে।
ঝ) হোস্টেলের সিট ১ (এক) বছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলো। তবে কোনো বোর্ডার সন্তোষজনক আচরণ সহকারে বসবাস করলে পরবর্তী বছর যথানিয়মে মেয়াদ ০১ বছরের জন্য বৃদ্ধি করা হবে, যা পরবর্তীতে আরও সর্বোচ্চ ০৩ (তিন) বছর পর্যন্ত প্রয়োজনে যৌক্তিকতা বিবেচনার নিরিখে বর্ধিত করা যেতে পারে।
ঞ) হোস্টেলে বসবাসের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে বা কোনো কারণে সিট বরাদ্দ বাতিল হলে, নোটিশ পাওয়া মাত্র সিটটি খালি করে দিতে হবে। অন্যথায়, সিটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খালি বলে গণ্য হবে।
ট) বোর্ডার ছাড়া হোস্টেল কক্ষে/কক্ষের বাইরে অন্যকোন দর্শনার্থী/অতিথির প্রবেশ নিষেধ।
ঠ) হোস্টেলের স্বার্থে কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় বোর্ডারের কক্ষ পরিবর্তন করতে পারবেন।
ড) বোর্ডারদের শৃঙ্খলা বিরোধী/অশোভন আচরণ অথবা অন্য যেকোন কারণে কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময়ে সিট বরাদ্দ বাতিল করার ক্ষমতা রাখে। এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের গৃহীত সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।